অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে শাস্তির মুখে পড়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার।
রোববার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পৃথক আদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফের সিদ্ধান্ত জানায়। আইআরডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একই ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়া আরও চার কর্মকর্তার শাস্তিও মওকুফের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানান। এ সময় শাস্তির কারণে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তাদের অতীতের বিষয় ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং শাস্তি মওকুফের আশ্বাস দেন।
আইআরডির আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। আন্দোলনে ‘সংগঠকের ভূমিকা পালন’সহ বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার মূল বেতন দুই বা তার বেশি ধাপ কমানোর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
এনবিআর বিভাজন নিয়ে আন্দোলন
২০২৫ সালে এনবিআরকে ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ ও ‘রাজস্ব নীতি’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর বিরোধিতা করে কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনের মুখে পরে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথা জানায় সরকার।
এরপর এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতেও আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ২৮ জুন তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করলে আমদানি-রপ্তানিসহ এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরে এনবিআরের সেবাকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করে সরকার।
সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানানো হয় এবং পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীরা শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনের পর কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরবর্তী সময়ে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
আন্দোলনের এক নেতা দাবি করেছেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এনবিআরের তিন সদস্য ও এক কর কমিশনারকে পুনর্বহালেরও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন