চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পরিচালনার জন্য স্থাপিত নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার বাইরে স্থানীয় বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিইউএফএলের দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন। পাশাপাশি কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে কারখানাটিকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগ।
সিইউএফএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে স্থাপিত স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ব্যবস্থায় দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ মেগাওয়াট করে, অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রায় ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উচ্চচাপের বাষ্প কাজে লাগিয়ে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। একই বাষ্প ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াতেও ব্যবহৃত হয়।
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী বলেন, “সিইউএফএলের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুটি ইউনিট রয়েছে। এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ১২ মেগাওয়াট করে। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-১ ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-২-এও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিল বকেয়া রেখেও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পরে এসব সংযোগের মাধ্যমে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও আবাসিক স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কাজী আমিনুল হক বলেন, “শুরু থেকেই এসব জায়গায় সিইউএফএল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ টাকার মতো বিল আসে, তারা এসব পরিশোধ করে দেয়। তবে করোনাকালীন সময়ে কিছু বিল বকেয়া হয়েছিল।”
এদিকে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিইআরসি অনুমোদিত ট্যারিফ, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমতিসহ গ্রিড সংযোগ, মিটারিং ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারিগরি শর্ত পূরণের বিধান রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসব নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ সংলগ্ন বাজার ও আবাসিক স্থাপনায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আসার অনেক আগে থেকেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে। কী নিয়মে, কীভাবে এটি শুরু হয়েছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন