ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ৮৩টি পরিবার। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি স্টেশনে ২০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি নিউব্রিজ স্টেশনে ১৪ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশনে ১৬ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া স্টেশনে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
এ সময়ে জেলায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদ-নদীর পানি আরও বাড়লে জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার এলাকায় তিস্তার ভাঙন সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় একশ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে নদীগর্ভে বসতভিটা বিলীন হওয়া পরিবারের সংখ্যা ৮৩টি। ভাঙনে বসতঘরের পাশাপাশি গাছপালা, হাঁস-মুরগির খামার ও অন্যান্য মালামালও নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় অন্তত চার দফা বড় ধরনের নদীভাঙন হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী আরও দুই শতাধিক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট ভাঙনের মুখে পড়ে এলাকার শিশুদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরে দ্রুত জনবল নিয়োগ করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়া হয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তালিকা অনুযায়ী সরকারি নিয়মে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জে ভাঙন শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে প্রায় দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। নদ-নদীর পানি বাড়ায় জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ ফেলাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নতুন করে নদ-নদীর পানি বাড়ায় জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন