চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে তিন শতাধিক যাত্রী ও কয়েকটি যানবাহন নিয়ে ‘কপোতাক্ষ’ নামের একটি ফেরি ডুবোচরে আটকে গেছে। এতে মাঝসমুদ্রে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি উৎকণ্ঠায় রাত কাটাচ্ছেন যাত্রীরা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর নাব্যতা সংকটের কারণে পলিমাটিতে আটকে পড়ে ফেরিটি।
জানা গেছে, ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। এতে অন্তত তিন শতাধিক যাত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আটকে পড়া কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আটকে আছেন তারা। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন জায়গায় ফেরি আটকে পড়ায় নেমে বাড়িতেও যাওয়ার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খননকাজ না হওয়ায় সেখানে নাব্যতা সংকট প্রকট হয়েছে। ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরি প্রবেশ বা বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠবে। তখন বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে জোয়ার-ভাটার সময় বিবেচনা না করে ফেরি চালানোর ঘটনায় মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময় অনুযায়ী সূচি নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানান, রাতের জোয়ারে ফেরিটি নিজে থেকে ভেসে না উঠলে উদ্ধারকারী জাহাজ (টাগবোট) দিয়ে টেনে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বৈরী আবহাওয়া ও আবহাওয়া সতর্কতার কারণে টানা চার দিন এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফেরি চলাচল পুনরায় শুরুর দিনই এ ধরনের বিপত্তিতে পড়ল ‘কপোতাক্ষ’।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে একইভাবে ফেরিটি আটকে পড়েছিল। সে সময় প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তিনটি টাগবোটের সহায়তায় ফেরিটিকে উদ্ধার করা হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন