বর্তমানে জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তা ও ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি)-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা প্রয়োজন। এআই কোর্স চালুর আবেদন ইউজিসিতে দুই বছর ধরে আটকে থাকার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর কাঠামো নিয়েও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর যৌক্তিকতা বিবেচনার পরামর্শ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এই বিনিয়োগের যথাযথ ফল নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে কোথায় অবস্থান করছেন, তা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়—মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন