ট্রাকে পণ্য পরিবহনে নতুন নিয়ম জারির প্রতিবাদে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রাকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন করে ওজনসীমা নির্ধারণ করেছে। গতকাল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ছয় চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চ ৩০ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে। এর আগে ছয় চাকার ট্রাকে ৩০ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে ৪০ থেকে ৪৫ টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের সুযোগ ছিল।
নতুন এই নিয়মের প্রতিবাদে এবং অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন যৌথভাবে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর ফলে গতকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো আজও ভারত থেকে কোনো পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও কোনো পণ্য ভারতে রফতানি হয়নি।
তিনি বলেন, ভারতীয় এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, হিলি স্থলবন্দরেও একই সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা ধর্মঘট করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ফেরদৌস রহমান আরও বলেন, ধর্মঘটের কারণে অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ভারতীয় অংশে আটকা পড়ে আছে। তীব্র গরমে এসব ট্রাকে থাকা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতোই ভারত থেকে পাসপোর্টযাত্রীরা বাংলাদেশে আসছেন এবং বাংলাদেশ থেকে যাত্রীরা ভারতে যাচ্ছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন