বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিসের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। শেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য খাতে আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাশেদুল ইসলাম ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং, আলেশা মার্ট এবং সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে গ্রাহকদের কত টাকা আটকে আছে, কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চান।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল ব্যবসা পরিচিতি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০২টি কোম্পানিকে ডিজিটাল ব্যবসা পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে গ্রাহকদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় আটকে থাকা প্রায় ৫৩১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ই-কমার্সে লেনদেন নিরাপদ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা বিভাগ ‘ব্যবসায়ী অর্থ গ্রহণ ও নিরাপদে অর্থ সংরক্ষণ সেবা নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় গ্রাহকের দেওয়া অর্থ সরাসরি বিক্রেতার হাতে যায় না; পণ্য বা সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থ ছাড় করা হয়।
ই-কমার্স খাতের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার পরিকল্পনার কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে প্রতারণা বন্ধে ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে অধিদপ্তরকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম শুধু নিবন্ধন নয়, ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনার প্রস্তাব দেন। অস্বাভাবিক লেনদেন, অতিরিক্ত অভিযোগ বা বড় অঙ্কের দায় তৈরি হলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেন তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, ই-কমার্স খাতের শুরুর দিকে আইন ও তদারকির ব্যবস্থায় বিভিন্ন ফাঁক ছিল। নতুন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে ডিজিটাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের যথাযথ সেবা দিচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারি করা। সংসদ সদস্যের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন কর্তৃপক্ষের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন